অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম ২০২৬
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে চাচ্ছেন? ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে মাত্র ২ মিনিটে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা এখন একদম সহজ। এই পোস্টে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত দেখানো হয়েছে, শুরু থেকে যাচাই কপি ডাউনলোড পর্যন্ত।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কী কী লাগবে?
Jonmo nibondhon jachai করার আগে দুটি তথ্য হাতের কাছে রাখুন:
- জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ ডিজিট) আপনার সনদে ১৭ সংখ্যার একটি নম্বর থাকবে। যদি পুরোনো সনদে ১৩ ডিজিট থাকে, তাহলে শুরুতে আপনার জন্ম সাল (৪ ডিজিট) যোগ করুন তাহলে ১৭ ডিজিট হয়ে যাবে।
- জন্ম তারিখ (YYYY-MM-DD ফরম্যাটে) উদাহরণ: জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট ২০০০ হলে লিখতে হবে 2000-08-15।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার ধাপসমূহ
নিচের ফর্মে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে বাটনে ক্লিক করুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি BDRIS ওয়েবসাইটে চলে যাবেন। শুধু ক্যাপচা পূরণ করে Search বাটনে ক্লিক করলেই জন্ম সনদের তথ্য দেখতে পাবেন।
উপরের ফর্মের:
- “জন্ম নিবন্ধন নাম্বার” ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর লিখুন।
- “জন্ম তারিখ” ঘরে YYYY-MM-DD ফরম্যাটে তারিখ লিখুন। যেমন: ১৫ আগস্ট ২০০০ → 2000-08-15
- “জন্ম নিবন্ধন যাচাই” বাটনে ক্লিক করুন, সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে।
- নতুন পেজে শুধু ক্যাপচা সমাধান করে Search বাটনে ক্লিক করুন।
এছাড়াও নিচের ৫টি ধাপ অনুসরণ করলে যেকোনো ব্যক্তির birth certificate online check মাত্র ২ মিনিটেই করা সম্ভব।
ধাপ ১ – সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের যেকোনো ব্রাউজার খুলুন। অ্যাড্রেস বারে টাইপ করুন https://everify.bdris.gov.bd
অথবা গুগলে “everify bdris gov bd” লিখে সার্চ করুন এবং প্রথম ফলাফলে ক্লিক করুন। এটিই জন্ম নিবন্ধন আবেদন, যাচাই ও সংশোধন করার বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল BDRIS পোর্টাল, যেখানে দেশের সকল নাগরিকের জন্ম তথ্য সংরক্ষিত আছে।
ধাপ ২ – ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর দিন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে “Birth Registration Number” নামের একটি ঘর দেখবেন। এখানে আপনার জন্ম সনদ থেকে দেখে হুবহু ১৭ ডিজিটের নম্বরটি লিখুন।

স্পেস , ড্যাশ বা অতিরিক্ত সংখ্যা দেওয়া যাবে না।
ধাপ ৩ – জন্ম তারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে লিখুন
“Date of Birth” ঘরে আপনার জন্ম তারিখ লিখুন। অবশ্যই YYYY-MM-DD ফরম্যাট মেনে চলুন। এছাড়া মাস বা তারিখ এক সংখ্যার হলে তার আগে একটি শূন্য দিতে হবে।

Date of Birth 5, July, 1997 হলে লিখতে হবে 1997-07-05
ধাপ ৪ – ক্যাপচা সমাধান করুন
তারিখ লেখার পর একটি ছবিতে গণিতের সমস্যা দেখবেন। যেমন “3 + 5 = ?”। উত্তরটি নিচের ফাঁকা ঘরে লিখুন।

প্রতিটি সেশনে ক্যাপচা আলাদা হয়, তাই ভালো করে দেখে পূরণ করুন। ভুল ক্যাপচা দিলে তথ্য দেখাবে না।
ধাপ ৫ – Search বাটনে ক্লিক করুন
তিনটি ঘর সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Search” বাটনে ক্লিক করুন।

সব তথ্য সঠিক থাকলে আপনার সামনে নিচের তথ্যগুলো দেখাবে:
- নিবন্ধনকারীর নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
- পিতার নাম ও মাতার নাম
- জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান
- নিবন্ধন অফিসের তথ্য

এই তথ্যগুলো আপনার হাতে থাকা সনদের সাথে মিলিয়ে দেখুন। সব মিললে নিশ্চিত হবেন আপনার ডিজিটাল জন্ম সনদ বৈধ ও সক্রিয়।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি ডাউনলোড করবেন কীভাবে?
BDRIS পোর্টালে সরাসরি “Download” বাটন নেই। তবে দুটি সহজ পদ্ধতিতে জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি PDF DOWNLOAD করা যায়।
কম্পিউটারে ডাউনলোড পদ্ধতি
তথ্য দেখার পর কীবোর্ডে Ctrl + P চাপুন। একটি print dialog খুলবে। সেখানে “Destination” বা “Printer” অপশনে “Save as PDF” বা “Microsoft Print to PDF” সিলেক্ট করুন। এরপর “Save” বা “Print” বাটনে ক্লিক করলে ফাইলটি আপনার পছন্দের ফোল্ডারে সেভ হয়ে যাবে

মোবাইলে ডাউনলোড পদ্ধতি
Chrome browser (Android): ব্রাউজারের উপরে ডান কোণে ⋮ (তিন ডট) → Share → Print → Printer হিসেবে “Save as PDF” সিলেক্ট করুন তারপর Download বাটনে ক্লিক করুন।
এই যাচাই কপিটি পাসপোর্ট আবেদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ভোটার আইডি আবেদনসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কেন জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই করা জরুরি?
অনেকেই মনে করেন সনদ হাতে আছে তো আর কী দরকার। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন অনলাইন চেক করা জরুরি কারণ:
১. নকল সনদ শনাক্ত করতে: বর্তমানে ডিজিটাল টুলস দিয়ে নকল সনদ তৈরি সহজ হয়ে গেছে। অনলাইনে যাচাই করলে নিশ্চিত হওয়া যায় সনদটি আসল।
২. ডিজিটাল স্ট্যাটাস জানতে: পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, স্কুলে ভর্তি, সব জায়গায় এখন ডিজিটাল জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক।
৩. তথ্যে ভুল ধরতে: অনেকের সনদে নাম বা তারিখে ভুল থাকে। আগে থেকে অনলাইনে চেক করলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সুযোগ পাওয়া যায়।
৪. ভোটার আইডি তৈরিতে: জন্ম সনদের তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়, তাই আগে থেকে যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
সমস্যা ১: No Record Found দেখাচ্ছে
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া সমস্যা। এর পেছনে সাধারণত ৪টি কারণ থাকে।
কারণ | সমাধান |
|---|---|
জন্ম তারিখ ভুল ফরম্যাটে | YYYY-MM-DD ঠিক করে লিখুন, মাস-দিনে 0 যোগ করুন |
নিবন্ধন নম্বরে ভুল ডিজিট | সনদ থেকে দেখে একে একে মিলিয়ে নিন |
সনদ ডিজিটাল হয়নি | ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করুন |
নতুন সংশোধন করা হয়েছে | কয়েক দিন অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন |
সমস্যা ২: Request Timeout
কারণ: BDRIS সার্ভার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। হাজার হাজার মানুষ একসাথে ব্যবহার করেন।
সমাধান:
- সন্ধ্যা ৬টার পর বা রাতে চেষ্টা করুন। তখন সার্ভার অনেকটাই ফাঁকা থাকে
- মোবাইল ডেটার বদলে Wi-Fi ব্যবহার করুন
- বারবার refresh না করে ২–৩ মিনিট অপেক্ষা করুন
সমস্যা ৩: জন্ম নিবন্ধন নম্বর হারিয়ে গেছে
সমাধান: স্কুলের সনদপত্র, পুরোনো কাগজপত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্রে নম্বর খুঁজুন। না পেলে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে নাম ও জন্ম তারিখ দিয়ে গিয়ে ভলিউম বই থেকে বের করতে পারবেন।
সমস্যা ৪: তথ্য ভুল দেখাচ্ছে
সমাধান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনে “তথ্য সংশোধন” আবেদন করুন। অথবা BDRIS পোর্টাল থেকে অনলাইনে সংশোধনের জন্য আবেদন দেওয়া যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো everify.bdris.gov.bd। এখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে জন্য তথ্য যাচাই করা যায়।
শুধু জন্ম তারিখ দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
না। শুধু জন্ম তারিখ দিয়ে সম্ভব নয়। অবশ্যই ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং সঠিক জন্ম তারিখ দুটোই লাগবে।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কোনো ফি লাগে?
না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। everify.bdris.gov.bd-তে গিয়ে ফ্রিতে jonmo nibondhon online check করা যায়।
মোবাইল দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
হ্যাঁ, মোবাইলের যেকোনো ব্রাউজার (Chrome, Firefox, Samsung Internet) দিয়ে everify.bdris.gov.bd ভিজিট করে jonmo nibondhon check করা যায়।
YYYY-MM-DD মানে কী?
এটি জন্ম তারিখের একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট। YYYY = সাল (যেমন 2003), MM = মাস (যেমন 07), DD = তারিখ (যেমন 05)। সম্পূর্ণ লেখা হবে 2003-07-05।
শেষ কথা
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা এখন আর কঠিন কিছু নয়। সঠিক ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর আর YYYY-MM-DD ফরম্যাটে তারিখ দিলে everify.bdris.gov.bd থেকে মুহূর্তের মধ্যে জন্ম তথ্য যাচাই করা যায়।
যাচাই শেষে PDF ডাউনলোড করে রেখে দিন। ভবিষ্যতে স্কুল ভর্তি, পাসপোর্ট বা ভোটার আইডির সময় কাজে আসবে। আর যদি সনদ এখনও ডিজিটাল না হয়ে থাকে, আজই নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন। কারণ ডিজিটাল জন্ম সনদ ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশে অনেক কাজই আটকে যায়।




